নকলা (শেরপুর): শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুলাই মাসে সেবাদান ও সেবামূল্য আদায়ে এক নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম এক মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা সরকারি হাসপাতালের সেবামান ও জনআস্থার ইতিবাচক নির্দেশক।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসজুড়ে মোট ২৬ হাজার ৫৯৪টি সেবা প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে ২২৬ জন দরিদ্র ও অসহায় রোগীকে বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হয়, বাকি ২৬ হাজার ৩৬৮টি সেবার জন্য মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪৩ টাকা সেবামূল্য আদায় করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক সেবার পরিসংখ্যান:
বহিঃবিভাগ: ১৮,৪৫২ জন রোগী; আয় ৫৫,৩৫৬ টাকা
অন্তঃবিভাগ: ১,১৫২ জন; আয় ৫,৭৬০ টাকা
জরুরি বিভাগ: ২,২৮০ জন; আয় ৬,৮৪০ টাকা
রক্ত সঞ্চালন: ১১ জন; আয় ১,১০০ টাকা
প্যাথলজি: ৩,৯৪০ জন; সর্বোচ্চ আয় ১,৭৫,১৭০ টাকা
আল্ট্রাসনোগ্রাম: ৮৩টি; আয় ১১,১০০ টাকা
এক্স-রে: ২৫০ জন; আয় ১৩,৪১৭ টাকা (৮ জন বিনামূল্যে)
অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস (নকলা-ময়মনসিংহ): ২৫ জন; আয় ২৭,৫০০ টাকা (২ জন বিনামূল্যে)
কেবিন ও অন্যান্য: ২৫টি সেবা; আয় ৬,৮০০ টাকা
এছাড়া জুলাই মাসে হাসপাতালটিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ জুন থেকে দরিদ্র মায়েদের জন্য বিনামূল্যে সিজারিয়ান ডেলিভারি সেবা চালু করা হয়, যা স্থানীয়দের জন্য বড় এক সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মোস্তফা জানান, “হাসপাতালের সেবার মানে জনগণের আস্থা দিনদিন বাড়ছে। এই অর্জন পুরো হাসপাতাল টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।”
তিনি আরও বলেন, “নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, সেবার মান ও প্রশাসনিক দক্ষতায়ও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”
এই সাফল্যের জন্য ডা. গোলাম মোস্তফা নকলা হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
0 coment rios: